ইসলামী জীবন বীমার যেসব মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন

ব্যাংক বীমা

মোহাম্মদ জাকির শাহ,কমলনগর,লক্ষ্মীপুর:

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, তাই ইসলামী জীবন বীমাও থাকা মোসলমানদের প্রয়োজন, ইসলামী জীবন বীমার কতগুলো মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন 

১। ব্যবসায়ীক লেনদেন ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সমবায় নীতিতে পরিচালিত হয়। প্রচলিত বীমা ব্যবস্থায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ঠিক রেখে ইসলামী বীমা তার কর্মকাণ্ডে যেমন, বিরবণ, বীমার স্বত্ব নির্ধারণ, পুনর্বীমাকরণ, তহবিল বিনিয়োগ, মুনাফা বন্টন প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহর নীতি পরিচালন করে থাকে।

২। ইসলামী বীমায় পলিসি গ্রহণকারীদের বিশেষ ভূমিকা থাকে। পলিসি গ্রহণকারীরা অংশীদারের মর্যাদা পায়। মুনাফায় অংশ পাওয়ার অধিকার পলিসি গ্রহীতার থাকে। কোম্পানির মুনাফায় পলিসি গ্রহীতার অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তেমনি লোকসান হলেও তা বহন করতে হয়।

৩। ইসলামী বীমা তহবিল বিনিয়োগ করে অর্থনীতির হালাল খাত সমূহে। শরীয়াত নিষিদ্ধ কোন খাতে ইসলামী বীমা কোম্পানি তার তহবিল বিনিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ বিশেষ প্রকল্পের অধীনে তহবিল বিনিয়োগ করার উদ্যোগ ইসলামী বীমা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হয়।

৪। ইসলামী বীমার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে যে, এ ধরনের বীমা প্রতিষ্ঠান কোন অবস্থায় সুদভিত্তিক কোন বিনিয়োগ করবে না। সুদ যেহেতু হারাম বা নিষিদ্ধ সেহেতেু ইসলামী বীমা কোন পরিস্থিতিতেই সুদ আয় করার জন্য বিনিয়োগ করতে পারে না। তারা সব বিনিয়োগ ইসলামী বিনিয়োগ পদ্ধতি বিশেষ করে মুদরাবা বা মুশারাকা পদ্ধতিতে করে থাকে।

৫। ইসলামী বীমার পলিসিতে কোন রকম অস্বচ্ছতা বা ‘গারার’ এবং জুয়ার মতো নিষিদ্ধ জিনিসের উপাদান থাকতে পারে না। স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা হবে এ ধরণের বীমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৬। ইসলামী বীমা দু’টি পৃথক ও সুস্পষ্ট হিসাব (Accounts) রক্ষা করতে হয়। সেগুলো হলো- শেয়ার হোল্ডারদের হিসাব ও পলিসি হোল্ডারদের হিসাব। এ দু’টি হিসাব নির্ধারিত নীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত খাতে নিষ্পন্ন হয়।

৭। তাবাররু হলো ইসলামী বীমার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর এ তাবাররু বীমাকে ইসলামী চরিত্র দান করেছে। ইসলামী বীমা তা তাকাফুলে যৌথ জামানত এবং পারস্পারিক সাহায্য প্রদানের দায়-দায়িত্ব পালনার্থে তাকাফুলে অংশগ্রহণকারীগণ তাদের তাকাফুল কিস্তির বা তাকাফুল চাঁদার নির্দিষ্ট অংশ তাবাররু হিসাবে দান করার অঙ্গীকার দিয়ে থাকেন। এটি মুদারা পদ্ধতিতে স্বাভাবিক চুক্তির অতিরিক্ত।

চুক্তিতে তাবাররুর উদ্দেশ্য সহজে নির্ণয় করা যায় যে, এটি অংশগ্রহণকারীগণকে তাদের ব্যর্থ অংশগ্রহণকারীর ক্ষতিপূরণে আন্তরিক সহায়তাদানে তাদের কৃত ওয়াদা যথাযথ বাস্তবায়নে সক্ষম করে তোলে। সাথী অংশগ্রহণকারীদের ক্ষতিপূরণে সহায়তাদানের দায়-দায়িত্ব পূরণের পরই তাকাফুলে মুনাফা বা উদ্বৃত্তের বন্টন কার্যকরী করা হয়।

৮। শরিয়াহ পালনে নিশ্চিত করার জন্য ইসলামী বীমা কোম্পানির একটি শরিয়াহ উপদেষ্টা পরিষদ বা শরিয়াহ কাউন্সিল থাকে। এ ধরণের পরিষদ বা কাউন্সিল কোম্পানির কর্মকাণ্ডে শরিয়াহ পালন সম্পর্কে সর্বদা উপদেশ দিতে থাকে এবং তা পালন নিশ্চিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *